গর্ভবতীর খাদ্য তালিকা যা করবেন এবং যা করবেন না


গর্ভবতী নারীর খাদ্য তালিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা বহুকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে।

শুধু ঘরে বসে পেটুপুরে খাবার খাওয়াতেই যে হবু মায়ের সবকিছু ঠিক থাকবে তেমনটি নয়। এটা পুরনো ধারণা। তাই গর্ভে যে নতুন মানুষটি বেড়ে উঠছে তার সর্বোচ্চ সুস্থতার জন্য কি দরকার তা জানা দরকার।
যদি ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তো মাথা গুলিয়ে ফেলবেন। এখানে কি করতে হবে বা কি থেতে হবে ইত্যাদি নিয়ে অসংখ্য তথ্য রয়েছে। কোনটা যে ভালো বা খারাপ তা বুঝে ওঠা কঠিন। দেখা যায়, একেক গাইনকোলজিস্ট একেক ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণত সবাই বেশি বেশি শাক-সবজি খেতে বলেন। মাছ-মাংসও খেতে বলা হয়। ফলও খেতে বলা হয়। কিন্তু এনজাইম প্রস্তুতকারী ফল যেমন পেঁপে বা আনারস খাওয়ার ক্ষেত্রে আবার সাবধাণতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। শুকনো ফলও রয়েছে বিতর্কের তালিকায়। অনেক পুষ্টিবিদ গর্ভাবতীদের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মত দেন। আবার অনেকে উপকারী বলেই মত দিয়েছেন।

আর প্রক্রিয়াজাত খাবার যে ক্ষতিকর তা গোটা বিশ্বে মানুষই জানে।

আবার অনেক অনলাইন পোর্টাল বিভিন্ন দেশের খাবারের মিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন খাদ্য তালিকা তৈরির কথা বলে।

এত কিছুর পরও গর্ভবতী নারীর আসলে কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত তা একটা বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

এক ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদের মতে, যেসব খাবারে সমস্যা হয় সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। মাইক্রোওয়েভে প্রস্তুতকৃত খাবার না খাওয়াই ভালো। পেঁপে বা আনারস খেতে মানা করা হয় ঠিকই। কিন্তু এগুলো যে ক্ষতিকর তা কখনো কোনো বৈজ্ঞানীক গবেষণায় বলা হয়নি। তবে হবু মায়েদের অবশ্যই টাটকা খাবার খাওয়া উচিত।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যিনি যে ধরনের খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত তার তাই খাওয়া উচিত। তবে অনেক বেশি টাকটা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিতে হবে। বাতাস পুরে দেওয়া হয় এমন পানীয় খাওয়া যাবে না। এসব পানীয়র ফসফরাস দেহ থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়।

গর্ভাবস্থায় ১২-১৪ কেজি ওজন বৃদ্ধি কোনো বিষয় নয় বলে জানান অনেকে। এ কারণেই উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।

ক্রমাগত অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চকোলেট ও বার্গারের মতো খাবার খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া গাইনকোলজিস্ট এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Add a Comment