স্মার্ট উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে চাইলে Tipsmela.com …

লিডারশিপ এক্সপার্ট সাইমন সাইনেক
ভালো বিজনেস স্ট্যাটিজি ছাড়া স্মার্ট ব্যবসায়ী হওয়া যায় না। কিন্তু কিভাবে ভালো বিজনেস স্ট্যাটিজি নেওয়া যায়? এ বিষয়ে বিশ্বের নানা স্থানের অনুকরণীয় বিজনেস ব্যক্তিত্বরা জানিয়েছেন তাদের দারুণ সব অভিজ্ঞতার কথা।
• এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু বিষয়….
১. প্রণোদনা ও শাস্তি সব সময় কার্যকর নয়
মোটিভেশন এক্সপার্ট ড্যান পিংক বলেন, প্রণোদনা ও শাস্তি সব সময় কার্যকর নয়। এক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় আছে যা কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ সঠিক কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারলে কর্মীরা যেমন অনুপ্রাণিত হবে তেমন সঠিকভাবে কাজও করবে। আর এতে প্রতিষ্ঠান আপন শক্তিতে এগিয়ে যাবে।
২. বিক্ষিপ্ততায় কাজে বিঘ্ন
বিশিষ্ট লেখক ও বেসক্যাম্প-এর সিইও জেসন ফ্রায়েড বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এটা-সেটা করতেই বহু সময় পার হয়ে যায়। কোথাও ১৫ মিনিট কোথাও ৩০ মিনিট ইত্যাদি কাজেই তাদের দিন পার হয়। আর এতে সঠিকভাবে কাজ করা যায় না। তার মতে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় কোনো কথা না বলে কাজ করা। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের প্রথম অর্ধাংশ একেবারে নিরবে কাজ করা যেতে পারে। এ সময় কর্মীরা একে অপরের সঙ্গেও কথা বলবে না। ফলে কাজে গতি সঞ্চারিত হবে।
৩. বিশ্বাস ও সহযোগিতা
লিডারশিপ এক্সপার্ট সাইমন সাইনেক এ বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখেন। তার মতে, আধুনিক কর্পোরেট অফিস সেনাবাহিনীর অফিস থেকে আলাদা নয়। সেনাবাহিনীর অফিসাররা কোথাও তাদের কর্মীদেরই সবার আগে পাঠান। আর একইভাবে বিষয়টি কর্পোরেট ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের সর্বদা সব পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত। আর এতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা তৈরি হবে, যা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেবে।
৪. অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করা
ম্যানেজমেন্ট প্রফেসর লিন্ডা হিল জানান, বিভিন্ন আইডিয়ার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আর এ পার্থক্যগুলোকে বোঝার জন্য পর্যাপ্ত আলোচনা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। একে তিনি ‘মার্কেটপ্লেস অব আইডিয়াস’ বলছেন। এ বিষয়টি সঠিকভাবে যেন কাজ করে সেজন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয়দের যথাযথ গুরুত্ব, সময় ও সুযোগ করে দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
৫. অর্কেস্ট্রা থেকে শিখুন
বিজনেস কনসালটেন্ট ও অর্কেস্ট্রা পারফর্মার ইতালি ট্যালগ্যাম বলেন, কোনো অর্কেস্ট্রায় যেমন একটি নির্দিষ্ট ছন্দে সবাই কাজ করেন তেমনই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের না বলেন যে, আপনি কী করতে চলেছেন তাহলে তা আপনাকে এগোতে দেবে না। এক্ষেত্রে তাই সবার অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
৬. সময়ই সবকিছু
বিল গ্রস একজন উদ্ভাবক। তিনি প্রায় দুশ প্রতিষ্ঠানের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছেন। এতে তিনি জানতে পেরেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে সফল হয়। তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা সত্যিই প্রয়োজনীয় সেগুলো সর্বদা সফল। আর এক্ষেত্রে তার মতামত হলো, উদ্যোক্তাদের ভাবতে হবে, তার দেওয়া সেবাটি এ মুহূর্তে সত্যিই কতটা প্রয়োজনীয়। এটি যদি প্রয়োজনীয় হয় তাহলে সফল হবেই।
৭. লক্ষ্য হতে হবে বিশ্বকে ভালো স্থানে নেওয়া
ইউনিলিভারের সিওও হারিশ মানওয়ারি। তিনি বলেন, লাভের বিষয়টি কোনো ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। তার মতে, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। আর এতেই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষও পরিবর্তিত হবে।
৮. বর্তমান কর্মস্থল কাজে উৎসাহিত করে না
বর্তমানে যে ধরনের কর্মস্থলে আমরা কাজ করি তা সঠিকভাবে কাজে উৎসাহিত করে না বলে মনে করেন ব্যারি স্কুওয়ার্টজ। তিনি মনোবিদ ও লেখক। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে যে কর্মস্থলগুলোতে কাজ করি সেগুলোর অধিকাংশতেই মানুষ কাজ করে সম্পূর্ণ অর্থহীনভাবে। আর দিনশেষে কাজ থেকে কত অর্থ উপার্জন করা গেল, এটাই যেন মূল বিষয়। আর এ অবস্থা পাল্টাতে পারে মানুষকে সঠিকভাবে অর্থবহ কাজ খুঁজে দিয়ে। এক্ষেত্রে তাদের এমনভাবে অনুপ্রাণিত করতে হবে যেন তারা কাজের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হয়।

Add a Comment